১০ বছর ধরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্ল্যান! শেষমেশ একাই গোয়া পৌঁছে বন্ধুদের নামে ‘মিসিং ডায়েরি’ করলেন যুবক

Photo of author

By Sustainable Sapiens

গোয়া: অবশেষে অভিশাপ কাটল, কিন্তু বন্ধু জুটল না। দীর্ঘ ১০ বছরের পরিকল্পনা, ৩৫০ বার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের নাম পরিবর্তন এবং সহস্রাধিক মিটিং-এর পর যাদবপুরের সায়ন মৈত্র আজ সকালে গোয়ার মাটিতে পা রাখলেন। তবে টুইস্ট হল—তিনি একাই এসেছেন। আর এসেই সোজাসুজি স্থানীয় থানায় গিয়ে তাঁর চার বন্ধুর নামে ‘মিসিং ডায়েরি’ (নিখোঁজ ডায়েরি) করে এসেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালে। সায়ন এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে ‘Goa Calling 2015’ নামে একটি গ্রুপ খোলেন। প্রতি বছর সেই গ্রুপের নাম বদলে ‘Goa 2016’, ‘Goa 2017’ হতে হতে অবশেষে ‘Goa 2026 Final’ হয়। কথা ছিল গত পরশু সবাই হাওড়া স্টেশনে মিট করবেন।

সায়ন বাবু ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “ট্রেন ছাড়ার ঠিক ১৫ মিনিট আগে গ্রুপে মেসেজ আসতে শুরু করে। বাবলু লেখে ওর হঠাত করে পেট ব্যথা, তোতানের নাকি বস ছুটি ক্যান্সেল করেছে, আর রনি জানাল ওর ঠাকুমা সিঁড়ি থেকে পড়ে গেছেন—এই নিয়ে সপ্তমবার ওর ঠাকুমা পড়লেন! আমি বুঝে যাই, এরা কেউ আসবে না।”

রাগে এবং অভিমানে সায়ন একাই ট্রেনে ওঠেন। আজ সকালে গোয়া পৌঁছে তিনি সোজা পুলিশ স্টেশনে যান। পুলিশ যখন জানতে চায় তাঁর বন্ধুরা কোথায় হারিয়েছেন, সায়ন বলেন, “স্যার, ওরা হারিয়ে যায়নি। ওরা বিশ্বাসঘাতক। ওরা আমার কাছে মৃত। আমি চাই পুলিশ ওদের খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসা করুক, কেন আমার টিকিট ক্যান্সেলেশনের টাকা গচ্চা গেল?”

গোয়া পুলিশের ইন্সপেক্টর অবশ্য অভিযোগটি নেননি, উল্টে তিনি সায়নকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। জানা গেছে, ওই পুলিশ অফিসারের বন্ধুরাও গত মাসে তাঁকে ধোকা দিয়েছে।

আপাতত সায়ন একাই বিচে বসে সেলফি তুলছেন এবং ক্যাপশনে বন্ধুদের ট্যাগ করে লিখছেন—”মিসিং ইউ গাইজ… নট!”

Leave a Comment